দেশজুড়েলিড নিউজ

গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট ও নড়াইলে ধানের বাম্পার ফলন

গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট ও নড়াইল জেলায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত ব্রি হাইব্রিড ধান-৭ বাম্পার ফলন দিয়েছে।

আউশ মৌসুমের এই ধানে হেক্টার প্রতি ৭ দশমিক ৫০ টন ফলন পেয়ে কৃষকরে মুখে হাসি ফুঁটেছে। সেই সাথে লম্বা চিকন এই ধানের ভাল দাম পেয়ে খুশি কৃষক। এই জাতের চাষাবাদ সম্প্রসারিত হলে দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। কৃষক লাভবান হবেন। ব্রি হাইব্রিড ধান-৭ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি আউশ মৌসুমে ধানরে উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট ও নড়াইল জেলায় ব্রিহাইব্রিড-৭ জাতের ১ হাজার কেজি বীজ দিয়ে ২০০ বিঘা জমিতে কৃষকরা প্রদর্শণী প্লট স্থাপন করেন। স্বল্প জীবনকাল সম্পন্ন এই জাতের ধান মাত্র ১১০ দিনে হেক্টর প্রতি ৭ দশমিক ৫০ টন ফলন দিয়েছে। এই ধানের পর কৃষকরা জমিতে সরিষা করতে পরবেন। এই ধানের আগে বোরো আবাদ করে একই জমি থেকে কৃষক ৩টি ফসল উৎপাদন করতে পারছেন। এতে ফসলের নীবিড়তা বৃদ্ধি পাছে। কৃষকের আয় বাড়ছে।

এছাড়া এসব জেলায় বিনামূল্যে আউশ মৌসুমের ইনব্রিড ব্রি ধান-৪৮ জাত ২২০ কেজি, ব্রি ধান-৮২ জাত ১০০০ কেজি, ব্রি ধান-৮৫ জাত ৫০০ কেজি ও ব্রি ধান-৯৮ জাত ২০০ কেজি বিতরণ করা হয়।

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের মুন্সিরচর গ্রামের কৃষক কাওসার আলী শেখ(৬২) ব্রি হাইব্রিড ধান-৭ চাষ সম্পর্কে বলেন, হাইব্রিড ধানের গোছাও যেমন বড়, ছড়ায় ও তেমন পুষ্ট ধানের সংখ্যা বেশি। এ ধানের হেক্টর প্রতি ৭ দশমিক ৫০ টন ফলন পেয়েছি। ১১০ দিনে এত বেশি ফলন অন্য কোন ধানে পাওয়া যায় না। ধান লম্বা চিকন। প্রতিমণ ধান আমি ১ হাজার ১০০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। এ ধানের চালের ভাত খেতে সুস্বাদু ও ঝরঝরে। আগামীতে আমাদের এলাকায় এই ধানের আবাদ বৃদ্ধি পাবে। এই ধান আবাদে বিনামূল্যে বীজ, সার, পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করার জন্য তিনি ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি আরো বলেন, আমরা উচু জমিতে বছরে ৩টি ফসল ফলাই। নিচু জমিতে ২টি ফসল উৎপাদন করি। ভাল বীজ ও খাল খনন করে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করলে আমরা বছরে উচু জমিতে ৪টি ও নিচু জমিতে ৩টি ফসল ফলাতে পারবো। এতে কৃষি উৎপাদন ও আমাদের আয় বাড়বে।

বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলার মধ্য খুন্তাকাটা গ্রামের কৃষক আব্দুস সালাম (৫০) বলেন, আউশ মৌসুমে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয় আমাদের এলাকায় ১০০ বিঘা জমিতে ব্রি হাইব্রিড ধান-৭ এর আবাদ করায়। আমার ২ বিঘা জমিতে আমি এই ধানের চাষাবাদ করেছি। বিঘায় আমি ২৫ মণ ফলন পেয়েছি। আমার জীবনে এত ধান উৎপাদন হতে দেখিনি। আমাদের পাশে যারা আউশের প্রচলিত জাতের চাষাবাদ করেছে, তারা বিঘায় মাত্র ১২ মন ফলন পেয়েছে। প্রতি বছর এই বীজ দিয়ে আমরা চাষবাদ সম্প্রসারণ করতে চাই।

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিটুল রায় বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজ নির্বাচনী এলাকার এই উপজেলায় আউশ মৌসুমে ব্রি হাইব্রিড ধান-৭ হেক্টরে ৭ দশমিক ৫০ টন ফলন দিয়েছে। ইতিমধ্যে কোটালীপাড়া উপজেলার দীঘলিয়া ব্লকে এই জাতের ধান উৎপাদনের মধ্য দিয়ে কৃষক ১ ফসলী জমিকে ২ ফসলী জমিতে পরিনত করেছে। এখন তারা সরিষা আবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সরিষা হলেই এই ব্লকের জমি ৩ ফসলী জমিতে পরিনত হবে। এটিই কৃষি ও কৃষকের উন্নতির উদহরন।

ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান ও জ্যৈষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য আমরা চলতি আউশ মৌসুমে গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট ও নাড়াইল জেলায় ব্রি হাইব্রিড ধান-৭ হেক্টরে ৭ দশমিক ৫০ টন, ইনব্রিড ব্রি ধান-৪৮ হেক্টরে ৫ টন, ব্রি ধান-৮২ হেক্টরে ৪ দশমিক ৭০ টন, ব্রি ধান-৮৫ হেক্টরে ৪ দশমিক ৫০ টন, ব্রি ধান-৯৮ হেক্টরে ৫ দশমিক ৮৭ টন ফলন দিয়েছে।

আউশ মৌসুমে ধান উৎপাদনে তেমন সেচের প্রয়োজন হয় না। সার ও কীটনাশক খরচ কম লাগে। এই কারণে ব্রি হাইব্রিড ধান-৭ চাষ লাভ জনক। তিনি পাশাপাশি অনেক জমিতে একসাথে আউশ চাষের পরামর্শ দিয়ে বলেন, পরিকল্পিতভাবে আউশ চাষ হলে ইদুর ও পাখির উপদ্রব কমে যাবে। এছাড়া ইনব্রিড জাতের আউশ চাষ করে কৃষক ভাল ফলন পেয়েছেন। তারা এই ধান থেকে আগামী বছরের জন্য বীজ সংরক্ষণ করেছে। আমরা চাষাবাদের আধুনিক কলাকৌশল, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি, বীজ, সার দিয়ে কৃষককে হাতে কলমে অধিক খাদ্য উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ করছি। এটি সম্প্রসারিত হলে ফরিদপুর, খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলে খাদ্য উৎপাদনে বিপ্লব ঘটবে।

সূত্রঃ বাসস

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button