জাতীয়

চালের উৎপাদনের যে তথ্য দেয়া হয় তার সঙ্গে বাস্তবতার কোনও মিল নেই —-পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

ফারুক হোসেন: চাল উৎপাদনের কোনও সঠিক তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম। তিনি বলেছেন, সরকারের কৃষি খাত সংশ্লিষ্টরা চালের উৎপাদনের যে তথ্য দেয়, তার সঙ্গে বাস্তবতার কোনও মিল নেই।

বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) হোটেল সোনারগাঁওয়ে বাংলাদেশ রাইস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বিআরআরআই-ব্রি) প্রণীত ‘বাংলাদেশে চালের উৎপাদনশীলতা দ্বিগুণকরণ-ডিআরপি’ শীর্ষক কৌশলপত্র উপস্থাপন ও মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক উপস্থিত ছিলেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মেসবাহুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কৌশলপত্র উপস্থাপন করেন ব্রি’র মহাপরিচালক ড. শাহজাহান কবীর।

কৌশলপত্রে কৃষিপণ্যের সঠিক ও ন্যায্য দাম পেতে প্রাইস কমিশন গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কেন আপনারা প্রাইস কমিশন চান? তাহলে কৃষি বিপণন অধিদফতরের কী কাজ? এমন একটি অধিদফতর তো ভারতেও নেই। তাদের কাজ কি শুধু প্রতিদিনের দাম-দরের হিসাব রাখা? ওই সংস্থাকে দায়িত্ব নিতে হবে। না হয় সেটা ভেঙে প্রাইজ কমিশন করতে হবে।’

তিনি বলেন, নেদারল্যান্ডস ছোট্ট একটা দেশ। যার আয়তন বাংলাদেশের অর্ধেকের কম। কিন্তু তারা ৯৪ বিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্য রফতানি করছে। অথচ বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হওয়ার পরও আমরা পাঁচ বিলিয়নে আটকে রয়েছি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিবিএসের হিসাব মতে বাংলাদেশে জনপ্রতি মাথাপিছু চাল ভোগের পরিমাণ ধরে হিসাব করলে দেশে দুই কোটি ৮০ লাখ টনের বেশি চালের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু উৎপাদন হচ্ছে এর থেকে অনেক বেশি। তাহলে বাকি চাল গেলো কোথায়? তারপরও কেন আমদানি করতে হচ্ছে? নিশ্চয় উৎপাদনের তথ্যে ভুল রয়েছে।’

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে চাল উৎপাদনে যে সফলতা এসেছে সেটা ভালো। আরও অনেক এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের হেক্টরপ্রতি ফলন এখনও মাত্র ২ দশমিক ৭৪ টন। যেখানে জাপান হেক্টরে পাঁচ টন আর চীন সাড়ে ছয় টন ধান পায়। এমনকি ভিয়েতনামের ফলন ৫ দশমিক ৮৪ টন। আমরা চীন-জাপানের মতো উন্নত নয়, কিন্তু ভিয়েতনামের মতো সাধারণ দেশের মতো ফলনও করতে পারি না।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button