ক্যাম্পাস

জাবিতে সম্মাননা পেলেন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন

জাবি প্রতিনিধিঃ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আবৃত্তি ধ্বনির রজতজয়ন্তী ও আবৃত্তি উৎসবে গুণীজন সম্মাননা দেওয়া হয় বাংলা একাডেমির সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনের ১১৭ নং কক্ষে আজ বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) এ সম্মাননার আয়োজন করা হয়।

সেলিনা হোসেনেরর পৈতৃকভূমি নোয়াখালীতে হলেও বাবা এ কে মোশাররফ হোসেনের চাকরিসূত্রে বগুড়ার করতোয়া নদীর তীরে ও পরে রাজশাহীতেই তার শৈশবকাল কেটেছে দীর্ঘসময়। তিনি ১৯৫৪ সালে বগুড়ার লতিফপুর প্রাইমারি স্কুলে তার হাতেখড়ি করেন। ১৯৬২ সালে রাজশাহীর পি.এন গালর্স স্কুল থেকে মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ১৯৬৪ সালে রাজশাহী মহিলা কলেজে ভর্তি হন। কলেজ জীবন শেষ করে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে ভর্তি হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৭ সালে বি.এ. অনার্স এবং ১৯৬৮ সালে এম.এ. পাস করেন।

অধ্যাপক সেলিনা হোসেন তার শৈশব জীবনে সাহিত্যে প্রবেশের স্মৃতি নিয়ে বলেন, ”আমাদের কলেজে সাহিত্যের একটি প্রতিযোগিতা হয়েছিল। আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক আমাকে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে বলেন। কিন্তু আমার কোন প্রস্তুতি ছিল না। তবু স্যারের কথায় অংশ নিয়েছিলাম এবং গল্প-উপন্যাস সহ কয়েকটি ক্যাটাগরিতে প্রথম হয়েছিলাম। এই সাফল্যে আমি বিস্মিত ও অনুপ্রাণিত হই। এরপর থেকেই সাহিত্যের প্রতি একটা অন্যরকম আগ্রহ জন্মে এবং আরও দৃঢ়ভাবে অগ্রসর হই”।

তিনি তার জীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমি আমার বাবা কে আদর্শ হিসেবে দেখতাম। আমার বাবা একজন অসম্ভব রকমের মানবপ্রেমিক মানুষ ছিলেন। তিনি সব শ্রেণীর মানুষকে এক দৃষ্টিতে দেখতেন। আমিও আমার এই সাহিত্যের জগতে প্রবেশের পর মানবপ্রেমের এই বোধ অর্জন করতে পেরেছি। সাহিত্যে এ অর্জন অসামান্য। এজন্য মানুষকে সবসময় মানবিক দর্শনের বোধ থেকে দেখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমার লিখা সাহিত্য নিয়ে কানাডা এবং ভারতের ররীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণা হয়েছে। আমি গল্প,উপন্যাস,প্রবন্ধ ও শিশুসাহিত্যে মোট ১২৫ টি বই লিখেছি। ছোট থেকে বড় সবাই আমার এই লিখাগুলিকে পড়ছে,জানছে। এটাই আমার ভাল লাগা। এজন্য আমি মনে করি আমার এ অর্জন স্বার্থক।

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, ইংরেজী বিভাগের অধ্যাপক আহমেদ রেজা, দর্শন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আনাউরুল্লাহ ভুইয়া ও দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন প্রমুখ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button