ক্যাম্পাস

জাবিতে ৩ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ১০ম স্থান অর্জন, ভর্তি হতে এসে আটক

জাবি প্রতিনিধিঃ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি দিয়ে চান্স পেয়ে ভর্তি হতে এসে আটক হয়েছে মিনহাজুল আবেদিন আল-আমিন(২১) নামের এক শিক্ষার্থী।মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর) আইন বিভাগে ভর্তি হতে আসলে তাকে আটক করা হয়।

অভিযুক্ত মিনহাজুল আবেদীন ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া পৌরসভার গৌরীপুর গ্রামের আব্দুল লতিফ মিয়ার ছেলে। ময়মনসিংহ সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ফুলবাড়িয়ার আল হেরা একাডেমি থেকে এসএসসি উভয় পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। ‍ভর্তি পরীক্ষায় তিন লাখ টাকার বিনিময়ে প্রক্সি পরীক্ষার মাধ্যমে বি ইউনিটে (সমাজবিজ্ঞান ও আইন অনুষদ) দশম স্থান অর্জন করে। তার ভর্তি পরীক্ষার রোল-২১৩৭২৯০।

বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীন।

তিনি বলেন, আল আমীন প্রক্সির মাধ্যমে বি ইউনিটে ১০ম স্থান অর্জন করেছেন। আজ মঙ্গলবার ‘বি’ ইউনিটের অধীনে আইন ও বিচার বিভাগে ভর্তি হতে এসে হাতের লেখার সাথে অমিল খুজে পাওয়া যায়। ডিন মহোদয়ের সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমাদের কাছে হস্তান্তর করে। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর এক পর্যায়ে সে প্রক্সি দেওয়ার কথা স্বীকার করে।

তিনি আরও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় হাতের লিখা চর্চা করার একাধিক দলিল মিলেছে এবং মোবাইলে হাতের লিখা চর্চা করার নানা উপায়ের নির্দেশনা পাওয়া গিয়েছে।

প্রক্টর অফিসে আটককৃত শিক্ষার্থী আল-আমিন তার জ্বালিয়াতির কথা স্বীকার করে বলেন,’আমার বাবা আব্দুল লতিফ মিয়ার সাথে আমার আপন মামা মাজহারুল ইসলাম শাহীনের ৩ লক্ষ টাকার চুক্তি হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী টাকা পরিশোধ করার পর আমার মামা শাহীন ও আরেক মামা শুভ প্রক্সি দেওয়ার সকল ব্যবস্থা করে দেন। তবে পরীক্ষা কে দিয়েছে সেটা জানি না। বারবার হাতের লেখা চর্চার পর ভাইভায় অংশ নিয়েছিলাম।’

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আরও জানান, ‍ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের ৪৮ ব্যাচের আদনান রাজভির মামুন নামে এক শিক্ষার্থীর কাছে হলে রাত্রি যাপন করেন।

এব্যাপারে মামুনকে একাধিকবার কল দিলেও প্রক্টর অফিসে আসতে রাজি হননি।

আইন অনুষদের ডিন তাপস কুমার দাস বলেন, বিভাগে ভর্তি হতে আসলে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর নিতে হয়। সেসময় আমরা দ্বিতীয়বার সকলের হাতের লেখা যাচাই করি। এ সময়ে ওর হাতের লেখায় অমিল পাওয়ায় সন্দেহ হয়। পরে আমরা তাকে নিরাপত্তা শাখায় হস্তান্তর করি।

পরে প্রশাসনের অনুমতিসাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত পরীক্ষা আইনের মাধ্যমে মামলা সহকারে আশুলিয়া থানায় সোপর্দ করা হয় অভিযুক্তকে ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button