দেশজুড়েধর্ম

“জালিম শাসক, শোষকশ্রেণী, সাম্রাজ্যবাদীরা ইমাম হোসাইন (রাঃ) এর আদর্শ ও কারবালার চেতনার জাগরণকে ভয় করে” – সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ

লক্ষ লক্ষ নবীপ্রেমিক, আহলে বাইতে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রেমিক জনতা, দেশ বিদেশের প্রখ্যাত সুফি সাধক, ইসলামিক স্কলার, বুদ্ধিজীবী, সরকারের মন্ত্রিবর্গ, রাজনীতিবিদসহ সর্বস্তরের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে চট্টগ্রামের জমিয়াতুল ফালাহ্ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে ১০ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক শাহাদাত-এ-কারবালা কনফারেন্স এর পর্দা নামে ঐতিহাসিক ১০ই মহররম, ৯ আগস্ট, ২০২২। সমাপনী ও প্রধান দিবসে সভাপতির বক্তব্যে নবীকরিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ৩১তম পবিত্র বংশধর, শাহ্সুফি সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী ওয়াল হোসাইনী মাইজভাণ্ডারী বলেন, ইমাম হোসাইন (রাঃ) এর সংগ্রাম ছিল অন্যায়-অবিচার ও জালিমের বিরুদ্ধে। তিনি ছিলেন মজলুমদের নেতা। কারবালা প্রান্তরে সত্য ও ন্যায়কে প্রতিষ্ঠার জন্য ইমাম হোসাইন (রাঃ) এবং নবীপরিবারের সম্মানিত সদস্যবর্গ তাদের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন, তবুও জালিমের সাথে আপস করেননি। তাদের এ মহান আত্মত্যাগ বিশ্বের মানবতাবাদী মানুষের জন্য চিরন্তন প্রেরণা। নিপীড়িত জনগোষ্ঠীকে শোষকশ্রেণীর হাত থেকে রক্ষা করতে এবং জালিমদের দুর্গ গুড়িয়ে দিতে ইমাম হোসাইন (রাঃ) এর আদর্শ আমাদের নিরন্তর শক্তির উৎস। কারবালার ঘটনা প্রমাণ করে, জুলুম করে কখনো ক্ষমতাকে স্থায়ী করা যায় না ; বরং যারা সত্য ও ন্যায়ের জন্য সংগ্রাম করে নিজেদের জীবনকে বিসর্জন দেন, তারাই চিরকাল বেঁচে থাকেন অজস্র হৃদয়ে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে।

তিনি আরো বলেন, “জালিম শাসক, শোষকশ্রেণী, সাম্রাজ্যবাদীরা ইমাম হোসাইন (রাঃ) এর আদর্শ ও কারবালার চেতনার জাগরণকে সবসময় ভয় করে। কারণ ইমাম হোসাইন (রাঃ) অন্যায়ের বিরুদ্ধে শাণিত তরবারি। তার আদর্শ, কারবালার চেতনা সমাজে প্রতিষ্ঠিত হলে জালিম, সাম্রাজ্যবাদীদের বিন্দুমাত্র অস্তিত্ব থাকবে না। ইমাম হোসাইন (রাঃ) এর প্রেরণা মজলুমদেরকে একতার শক্তিতে বলীয়ান করে সকল প্রতিকূলতাকে জয় করতে উদ্বুদ্ধ করবে। তখন বৈষম্যহীন, সাম্যের মানবিক পৃথিবী গড়ে উঠবে। এ জন্য ১৪০০ বছর আগে থেকেই কারবালার চেতনাকে, ইমাম হোসাইন (রাঃ) ও নবীপরিবারের সদস্যদের আত্মত্যাগের স্মরণকে দমিয়ে রাখার জন্য জুলুমবাজ শ্রেণী সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের নীলনকশা বাস্তবায়ন করে আসছে। তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় এক শ্রেণীর মুসলিম নামধারী মুনাফিকরা কারবালার প্রকৃত ইতিহাসকে বিকৃত করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু যতদিন আহলে বাইতে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাদের প্রেমিকরা পৃথিবীতে থাকবে, এ ষড়যন্ত্র সফল হবে না।”

সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী ওয়াল হোসাইনী মাইজভাণ্ডারী আহলে বাইতে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গণের মহৎ মর্যাদা সমুন্নত রাখতে এবং ফিলিস্তিন, সিরিয়া, ইয়েমেন, রাখাইন, চীন, কাশ্মীরসহ বিশ্বের মজলুমদের রক্ষায় দল-মত নির্বিশেষে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার আহবান জানান।

কনফারেন্সে প্রধান অতিথি ছিলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন মেয়র, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব রেজাউল করিম চৌধুরী। তিনি শ্রদ্ধার সাথে ইমাম হোসাইন (রাঃ) সহ আহলে বাইতে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গণকে স্মরণ করেন। তিনি এ কনফারেন্সের পরিসরকে আরো বাড়াতে ও সৌন্দর্যমণ্ডিত করতে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সুদূর বাগদাদ শরীফ থেকে বড়পীর গাউসুল আযম হযরত আবদুল ক্বাদির জ্বিলানী (রাঃ) এর পবিত্র বংশধর, শাহ্সুফি সাইয়্যিদ আফিফউদ্দিন জ্বিলানী, বিশেষ বিদেশি অতিথি হিসেবে সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। এসময় তিনি ইমানের সাথে আহলে বাইতে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গণের প্রতি ভালোবাসার অপরিহার্য সম্পর্ক ব্যাখা করেন। বাংলাদেশে প্রিয় (নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তার পরিবারবর্গের প্রতি ভালোবাসা দেখে তিনি অভিভূত হন ও এ দেশের জন্য বিশেষভাবে দোয়া করেন।

‘আন্তর্জাতিক শাহাদাত-এ-কারবালা মাহ্ফিল’ এর পরিচালনা পর্ষদের প্রধান, পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সুফি মিজানুর রহমান ৩৭ বছর ধরে সফলতার সাথে আয়োজন হয়ে আসা এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের পেছনে যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম রয়েছে, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, “১৯৮৮ সালে শায়খুল ইসলাম হযরত সাইয়্যিদ মইনুদ্দীন আহমদ আল হাসানী (কঃ) এবং আল্লামা জালালউদ্দিন ক্বাদেরী (রহঃ) এ সম্মেলনের শুভ সূচনা করেন। আজ এ সম্মেলন শুধু বাংলাদেশের আনাচে কানাচে নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সমহিমায় আয়োজিত হচ্ছে। বাংলাদেশে আহলে বাইতে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গণের প্রতি ভালোবাসা, ইসলামের জন্য তাদের আত্মত্যাগ মানুষের মাঝে তুলে ধরছে এ সম্মেলন। ইমাম হোসাইন (রাঃ) এর চেতনার প্রসারে ভবিষ্যতে এ সম্মেলনকে বিস্তৃত করার জন্য আমি সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।”

প্রিয় নবিজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং সম্মানিত আহলে বাইতে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গণের প্রতি সশ্রদ্ধ সালাম নিবেদন শেষে বিশ্ববাসীর কল্যাণে প্রার্থণা করেন শাহ্সুফি সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী ওয়াল হোসাইনী মাইজভাণ্ডারী। গরীব ও অসহায়দের জন্য বিশেষ খাবারের আয়োজন করে আন্তর্জাতিক শাহাদাত-এ-কারবালা মাহ্ফিল পরিচালনা পর্ষদ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button