জাতীয়

ড. শামসুল আলম পরিকল্পনাবিদ হিসেবে যুগস্রষ্টা: ড.আর এম দেবনাথ

২০২০ সালে যখন অর্থনীতিতে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার ড. শামসুল আলমকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার ‘একুশে পদক’ প্রদান করে তখন আমি যারপরনাই আনন্দিত হই। এর কারণ দুটো।

প্রথমত, ড. আলম এ পুরস্কার পাওয়ার যোগ্যতম ব্যক্তি শুধু অর্থনীতিতে নয়, শিক্ষক-গবেষক হিসেবে, গ্রন্থকার হিসেবে, পরিকল্পনাবিদ হিসেবে, কলাম লেখক হিসেবে সর্বোপরি মানুষ হিসেবে ড. আলম অসামান্য চরিত্রের অধিকারী। তাই সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল যথাযথ। দ্বিতীয় কারণটি হচ্ছে আমাদের দেশে অর্থনীতিবিদদের সম্মান জানানোর রীতি বিরল।

কবি, সাহিত্যিক, গল্পকার এদের পুরস্কৃত করার ব্যবস্থা নিয়মিত পরিলক্ষিত হয়। এ প্রক্ষাপটে যখন ড. শামসুল আলমকে অর্থনীতিতে অবদানের জন্য একুশে পদকে ভূষিত করা হয় তখন আমি দারুণ খুশি ও অনুপ্রাণিত বোধ করি।

ড. শামসুল আলমের সঙ্গে প্রথম আলাপ সূত্রপাত কখন হয় তা আজ আর আমার মনে নেই। তবে মনে হয় ‘দৈনিক সংবাদে’ আমার ১৯৭৩ সাল থেকে নিয়মিত অর্থনীতির ওপর লেখা সূত্রেই তার সঙ্গে পরিচয় হয়। তিনি তখন ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর ছাত্র। লেখালেখি ও গবেষণার প্রতি তার ঝোঁক শিক্ষকতা জীবনের প্রথম থেকেই। এর ফসল হিসেবেই আমরা তার গবেষণাকৃত অত্যন্ত মৃল্যবান নিবন্ধ/রচনা পাই অসংখ্য। দেশে-বিদেশে প্রকাশিত তার বৈজ্ঞানিক গবেষণা নিবন্ধের সংখ্যা পঞ্চাশের অধিক। কলামভিত্তিক অর্থনীতির ওপর প্রকাশিত গ্রন্থ সংখ্যা ১৩। সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যাও বিশের অধিক। বলা উচিত এর সব আমার পক্ষে পড়া সম্ভব হয়নি।
যখনই সুযোগ হয়েছে পড়েছি। বিশেষ করে তার অর্থনীতি সম্পর্কে ধারণাগুলোর সঙ্গে পরিচিত হওয়া যায় তার নিয়মিত লেখা নিবন্ধগুলো পাঠ করলে। তিনি অর্থনীতির লেখক হিসেবে দেশে অগ্রগণ্য। বস্তুত বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদদের খুব কমসংখ্যকই লেখালেখি করেন, নিয়মিত কলামের তো প্রশ্নই ওঠে না। এমনকি চিন্তা জাগানিয়া মূল্যবান গ্রন্থ রচয়িতা অর্থনীতিবিদের সংখ্যাও বিরল। এমতাবস্থায় শত ব্যস্ততার মধ্যেও ড. আলম নিয়মিত কলাম লেখেন।

বলা বাহুল্য এগুলো কোনো রচনা নয়। আমি তার প্রতিটি কলাম গোগ্রাসে পড়ি। সহজ-সরল ভাষায় তিনি লেখেন কঠিনতম বিষয়। প্রতিটি লেখায় যেমন থাকে প্রচুর তথ্য, থাকে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি, তেমনি থাকে বাস্তবধর্মী পর্যালোচনা। আমি তার লেখা থেকে চিন্তার খোরাক পাই। অনুন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ, সমুদ্র অর্থনীতি, দারিদ্য, পরিসংখ্যানের বাস্তবতা, কৃষির উন্নয়ন, যুবসমাজের কল্যাণ, নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি বিষয়ের ওপর তার লেখা অনন্যসাধারণ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button