ক্যাম্পাসলিড নিউজ

পূর্ণাঙ্গ কমিটির জন্য জীবনবৃত্তান্ত নিল ঢাবির বিজয় একাত্তর হল ছাত্রলীগ

প্রায় ৫ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ছাত্রলীগ ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ কমিটির লক্ষ্যে পদ প্রত্যাশীদের থেকে জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করেছে কয়েকটি হল ছাত্রলীগ ইউনিট। গত ১০-১১সেপ্টেম্বর বিজয় একাত্তর হল মিলনায়তনে ঘটা করে বিজয় একাত্তর হল ছাত্রলীগের সভাপতি সজীবুর রহমান সজীব এবং সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আবু ইউনুস আনন্দঘন পরিবেশে ৩০৬ জন পদপ্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত গ্রহণ করেছে।

বিজয় একাত্তর হল ছাত্রলীগের সভাপতি সজীবুর রহমান সজীব পূর্ণাঙ্গ কমিটির ব্যাপারে বলেন, ‘ প্রতিটি সংগঠনের প্রাণ হলো ত্যাগী, পরিশ্রমী, বিচক্ষণ, দূরদর্শী কর্মী যারা আদর্শিক স্বার্থে আপোষহীন । আমরা দীর্ঘ সময় পর হল কমিটি পূর্ণাঙ্গের জন্য জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করেছি। হলের কর্মীরা আনন্দমুখর পরিবেশে জীবন বৃত্তান্ত জমা দিয়েছে এবং সংগঠনের নিকট তাদের প্রত্যাশা এবং তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কেমন সেটা মঞ্চের ডায়াচে তাদের বক্তব্যের মাধ্যমে তুলে ধরেছে। আসছে পূর্ণাঙ্গ হল কমিটিতে পরিশ্রমী, ত্যাগী, আদর্শিক ভাবে আপোষহীন কর্মীদের মূল্যায়ন করা হবে। আগামী জাতীয় নির্বাচন উপযোগী পূর্ণাঙ্গ হল কমিটি প্রদান করতে চাই।”
হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আবু ইউনুস বলেন, ‘আমরা একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশ ও দশের জন্য কল্যাণমূলক নেতৃত্বে ভূমিকা রাখতে পারে এমন মেধাবী ও সাংগঠনিক যোগ্যতা সম্পন্ন নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পদায়িত করবো। আমরা মনে করি তারা দূরদর্শিতা, বলেবিচক্ষণতা এবং সততার সাথে সংগঠনের ভাবমূর্তি অনন্য পর্যায়ে নিয়ে যাবে। পদপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দ সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কাজ করে যাবে। ’

সর্বশেষ, ২০১৬ সালের ১৩ ডিসেম্বর ১৮টি হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করেন তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতৃত্ব। ২০১৭ সালের ১৭ নভেম্বর হল কমিটিগুলো পূর্ণাঙ্গ করা হয়। ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলন হলে এই কমিটিগুলো ভেঙে যায়।

গত ২ ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রি. হল ইউনিটগুলোতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম উল্লেখ করে আংশিক কমিটি প্রকাশ করা হয়। নতুন কমিটি দায়িত্ব পাওয়ার সাত মাস পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করেছে।

পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে কর্মীদের প্রত্যাশা কেম্ন জানতে চাইলে হল ছাত্রলীগ কর্মী মোল্লা আবু শামীম বলেন, ‘ বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে সম্মানজনক অবস্থানে তুলে ধরতে আমাদের আগামীর চ্যালেঞ্জ চতুর্থ শিল্প বিপ্লব উপযোগী নেতৃত্ব তৈরী করা। নিপীড়িত মানুষের পক্ষে যুগে যুগে লড়ে যাওয়া দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের আগামীর নেতৃত্ব কেমন হবে সেটা সম্পর্কে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে স্পষ্টত বলেছেন যে তোমাদের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের সাথে তাল মেলাতে নিজেদের দক্ষভাবে গড়ে তুলতে হবে। নীতিনির্ধারণী রাজনৈতিক নেতৃত্বসম্পন্ন কর্মীদের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদায়িত করা হবে বলে আমরা আমাদের নেতাদের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখি। আমরা প্রত্যাশা করি – যারা সুখ, দুঃখ, মিলন ও বিরহে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সবাইকে নিয়ে হাসিমুখে আগামীর হল পরিচালনা করবে আমাদের নেতৃবৃন্দ তাদের যথাযথ মর্যাদা প্রদান করবেন পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে। আমাদের সামনে জাতীয় নির্বাচন রয়েছে। সে প্রেক্ষিতে আমাদের প্রত্যাশা যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সংগঠনের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে এমন মেধাবী, বিচক্ষণ ও পরিশ্রমী কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। স্বাধীনতা বিরোধী, মাদকাসক্ত এবং বিতর্কমুক্ত কর্মীদের পদায়ন করা হবে বলেই আমরা আশাবাদী। ‘

পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেমন হওয়া উচিত জানতে চাইলে হল ছাত্রলীগ কর্মী আনোয়ারুল কবির (দিপু) বলেন, ‘দীর্ঘদিন যারা হল ছাত্রলীগে সময় দিয়েছে, সাংগঠনিক কার্যক্রমগুলোতে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করেছে, এবং যাদের পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড আওয়ামী পরিবারের তাদেরকেই আমরা কমিটিতে চাই।’

হল ছাত্রলীগের গত কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক মিনহাজুল বলেন, ‘ বাংলাদেশ ছাত্রলীগ একটি গতিশীল ছাত্রসংগঠন। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সংগঠনের প্রাণ প্রতিটি কর্মী ও নেতৃবৃন্দের গুনাবলি বিকশিত হয়। আমাদের প্রত্যাশা সময়ের চাহিদা বিবেচনা করে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে মুজিবীয় কর্মীদের পদায়িত করা হবে৷ আমাদের প্রত্যাশা বিতর্কিত কাউকে সংগঠনের ব্যানারে ঠাঁই দেওয়া হবে না।”

এছাড়াও হল শাখার সাবেক উপ-কর্মসূচি ও পরিকল্পনা সম্পাদক সাইদুল ইসলাম বলেন, “আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে প্রায় পাঁচ বছর পর হল কমিটি পূর্ণাঙ্গের ব্যাপারে বিজয় একাত্তর হল যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে কর্মীদের থেকে জীবন বৃত্তান্ত গ্রহণ করেছে৷ আমরা প্রত্যাশা করি ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে তরূণদের উদ্ভাবনী শক্তির সৎ ব্যবহারের বিকল্প নেই। আমরা প্রত্যাশা করি পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সৃজনশীল, পরিশ্রমী, ত্যাগী এবং আওয়ামী ব্লাডের কর্মীদের যথাযথ মর্যাদা প্রদান করা হবে।

শাহিনুর ইসলাম বলেন, “নেতৃত্ব হলো অনেকগুলো গুণাবলির সমন্বিত রূপ। উপস্থিত সিদ্ধান্ত ক্ষমতা, বিচক্ষণতা, পরিস্থিতি মোকাবেলা করার ক্যাপাবিলিটি, নিরলস পরিশ্রম, ত্যাগ, সংগ্রাম,আনুগত্য ইত্যাদির সমন্বিত রূপ নেতৃত্ব। হল কমিটিতে আমার আমরা প্রত্যাশা করি আঞ্চলিকতার বাইরে গিয়ে বিগত সময়ে নিরলস ভাবে হল ছাত্রলীগ ইউনিটকে সুসংগঠিত করার জন্য নিবেদিত নৌকার উত্তরসূরীদের পদায়িত করা হবে।”

হল ছাত্রলীগের জনপ্রিয় মুখ সাইদুর রহমান শরিফ, ” আমি সত্যি গর্বিত যে আমি বিজয় একাত্তর হল ছাত্রলীগের কর্মী। আমাদের দুজন বিচক্ষণ এবং ডিনামিক নেতা রয়েছে। আমরা তাদের প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখি। আশা করি সংগঠনের স্বার্থে যোগ্যদের মূল্যায়িত করা হবে।
পরিশ্রমী ছাত্রলীগ কর্মী তৌহিদ হোসেন হোসেন বলেন, ” আমরা খুবই আনন্দিত যে সবার আগে আমাদের হল ছাত্রলীগ ইউনিট মহোৎসব করে জীবনবৃত্তান্ত গ্রহণ করেছে। আশা করি দীর্ঘ সময় মুজিব আদর্শে উদ্ভুদ্ধ হয়ে রাজপথে ঘাম ঝরানো কর্মীদের মর্যাদা দেওয়া হবে।’

হল ছাত্রলীগ গত কমিটির সদস্য মো. জর্জ বলেন, ‘ বিজয় একাত্তর হল ছাত্রলীগ বর্তমানে হল ইউনিটগুলোর মধ্যে রোল মডেল খ্যাত। আমরা যারা দীর্ঘ সময় ধরে এক সাথে রাজপথে পথ চলেছি সামনে তাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে মর্যাদা দেওয়া হবে। আমাদের চাওয়া সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সংগঠনকে নেতৃত্ব দিতে পারবে এরকম কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হোক।

সর্বপরি, সকল কর্মীর চাওয়া যোগ্য নেতৃত্বে এগিয়ে যাবে বিজয় একাত্তর হল ছাত্রলীগ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button