দেশজুড়ে

মতলব উত্তরে আশ্রয়ণ প্রকল্পে ৬০ পরিবারের মানবেতর জীবনযাপন

ফারুক হোসেন:
চাঁদপুরের মতলব উত্তরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বসবাসকারীরা নানা সমস্যায় জর্জরিত। ছিন্নমূল পরিবারের বসবাসের জন্য গড়ে তোলা হয়েছিল আশ্রয়ণ প্রকল্প। এই আশ্রয়ণ প্রকল্প প্রতিষ্ঠার ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এখানকার মানুষগুলো পাননি বেঁচে থাকার পরিপূর্ণ জীবন।

জানা যায়, ২০০৭ সালে গৃহহীনদের গৃহ দান এই প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলার বেলতলী মৌজার খাস জমিতে ৬০টি পরিবারের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের অদ্যবধি আবাসনের অবকাঠামো সংস্কার ও মেরামত না করায় জরাজীর্ণ ভাঙ্গাচোরা ঘরে তাদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ৬টি ব্যারাকে ৬০টি পরিবারের জন্য নির্মিত আবাসনের ইউনিট গুলোর বেশিরভাগ ছাউনি, বেড়া, দরজা, জানালা নষ্ট হয়ে ব্যবহারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ঘরের চালে পলিথিন, বেড়ায় পুরনো কাপড় দিয়ে কোন রকমে বসবাস করছেন। সামান্য বৃষ্টি এলে ঘরগুলো ভিজিয়ে যায়। টিউবওয়েল নষ্ট হলে নিজেদের অর্থেই ঠিক করে নিতে হয়। টয়লেটের অবস্থাটাও একইরকম। পরিবার-পরিজন ও গৃহপালিত পশু নিয়ে পড়তে হয় বিপাকে। তাদের জন্য অন্য কোন কর্মসংস্থান না থাকায় চরম দারিদ্র আর অভাবের মধ্যে দিন কাটছে। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, ভিজিএফ ও ভিজিডি কার্ডের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত বলে অভিযোগ করেন আবাসনের বাসিন্দারা।

আশ্রয়ন প্রকল্পে বসবাসকারীরা জানান, নির্মাণের পর সংস্কার না করায় বেশিরভাগ ইউনিট গুলোর টিনের চালা দিয়ে পানি পড়ে। শীতে হিমহিম বাতাস আর বর্ষাকালে ঝড় বৃষ্টিতে বসবাস করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দা পারুল জানান, জায়গা জমি নাই তাই ঠাঁই হয় এ আশ্রয়ণ প্রকল্পে। সংস্কার না করায় এখানে বসবাস করা কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। জুয়েল জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিববর্ষে গৃহহীনদের ঘরবাড়ি তৈরী করে দিচ্ছে অথচ ১৪ বছর আগে আশ্রয়ন প্রকল্পে মাথা গোঁজার ঠাঁই টুকু করে দিয়ে অদ্যবধি কেউ আর আমাদের কোন রকমের খোঁজ খবর নেয়নি।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের সভাপতি জহির মোল্লা জানান, মাথা গোঁজার ভাঙ্গাচোরা ঘর। এগুলো অনেক আগেই নষ্ট হয়ে গেছে। সংস্কারের অভাবে অনেক ঘরে থাকার মতো অবস্থা নেই। একারণে আশ্রয়নের অনেক বাসিন্দা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

এ ব্যাপারে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজী শরিফুল হাসান বলেন, সরকারি বরাদ্দ না থাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্প সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। বরাদ্দ পেলে সংস্কার করা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button