জাতীয়

মতলব উত্তরে মেঘনা নদীর অবৈধ বালু উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা সময় বাড়লো

স্টাফ রিপোর্টার:

চাঁদপুর মতলব উত্তরে মেঘনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনে মহামান্য হাইকোর্ট নিষেধাজ্ঞা সময় বাড়ালো। সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৩ জুন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের উপ-কমিটির সদস্য ও মোহনপুর পর্যটন লিমিটেড ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মিজানুর রহমান বাদী হয়ে অবৈধ বালু কাটা বন্ধে মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন। ওই রিট পিটিশন পর্যালোচনা করে মহামান্য হাইকোর্ট মেঘনা নদীর ১৯টি মৌজায় বালু উত্তোলন ২০২২ সালের ফেব্রæয়ারি পর্যন্ত বন্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

প্রায় দুই বছর মতলবের মেঘনা নদীর তীরবর্তী ১৯ টি মৌজায় বালু কাটা বন্ধে থাকলে একটি মহল আবারো অবৈধভাবে বালু উত্তোলন পায়তারা করলে বাদী কাজী মিজানুর রহমান চলতি বছরে হাইকোর্টের নির্দেশনার সময় বাড়ানো জন্য রিভিও (আবেদন) করলে মহামান্য হাইকোর্টের গত ৯ মার্চ বিচারপতি জে.বি.এম হাসান ও বিচারপতি ফাতিমা নাজিবের যৌথ বেঞ্চ পূর্ব ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা আগামী ২০২৩ সালের ফেব্রæয়ারি পর্যন্ত বহাল রাখে।

মহামান্য হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা আওয়াভূক্ত মতলবের মেঘনা নদীর মধ্যে মৌজাগুলো হচ্ছে, জহিরাবাদ, জয়পুর, নাওভাঙ্গা, উত্তর পোয়ারচর, এখলাছপুর, হোগলা হাশিমপুর, নীলেরচর, মোহনপুর, বাহের চর, বোরচর, চর ইলিয়ট, রাম গোপালপুর, কাউয়ারচর, বাহাদুরপুর, কালীগঞ্জ দিয়ারা, চর সুগন্ধি, ষাটনল, নাসিরাকান্দি, নাপিতমারা চর।

জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত একটি মহল মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার ফলে হুমকির মুখে পড়ে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেচ প্রকল্প মেঘনা-ধনাগোদা বাঁধ। বিস্তীর্ণ এ বাঁধ, দেশের প্রস্তাবিত ইকোনমিক জোন ও বেসরকারী ভাবে প্রতিষ্ঠিত দেশের একমাত্র মিঠা পানির বীচ মোহনপুর পর্যটন লিমিটেড, প্রস্তাবিত হাইটেক পার্কসহ চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার বাড়িঘর ও ফসলি জমি রক্ষা করতে জনস্বার্থে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার কুমারখোলা গ্রমের কৃতিসন্তান, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ কমিটির সদস্য ও মোহনপুর পর্যটন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মিজানুর রহমান বাদী হয়ে অবৈধ বালু কাটা বন্ধে মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশনটি দাখিল করার প্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট ২০২০ সালের ২৩ জুন মেঘনা নদীতে ওই ১৯টি মৌজায় বালু উত্তোলন বন্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করলে একটি মহল বাদী কাজী মিজানুর রহমানে বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

সূত্রে আরো জানা যায়, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প মতলব উত্তরে মেঘনা তীরে অবস্থিত। দীর্ঘদিন যাবত একটি মহল অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের ফলে এই সেচ প্রকল্পের বাঁধটি ভাঙ্গনের হুমকির মুখে পড়ে। এছাড়া ফসলি জমি ও চরাঞ্চলের অসহায় গরীব মানুষের ঘর-বাড়ি নদীতে ভেঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

রিট পিটিশন আবেদনকারী কাজী মিজানুর রহমান  জানান, মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বাঁধ ও চরাঞ্চলের মানুষের ঘরবাড়ি রক্ষার জন্য মেঘনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের লক্ষে চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এ্যাডভোকেট মো. নুরুল আমিন রুহুল ভূমি মন্ত্রণালয় বরাবর ডিও লেটার প্রদান করেন। ওই ডিও লেটারের সূত্রে ধরে আমি মতলবের মানুষের স্বার্থে সম্পূর্ণ নিজ খরচে রিট পিটিশনটি দাখিল করি। আমার রিট পিটিশনের আলোকে মহামান্য হাইকোর্টে মতলব উত্তরের ষাটনল থেকে আমিরাবাদ পর্যন্ত ১৯টি মৌজায় বালু কাটা বন্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তিনি আরো জানান আমার বিরুদ্ধে যতই ষড়যন্ত্র করুক না কেনো আমি অবৈধ বালু কাটা বন্ধের জন্য মতলব বাসীর পক্ষ আইনগতভাবে লড়াই চালিয়ে যাব।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button