দেশজুড়ে

রোদ-বৃষ্টির সঙ্গে লড়াই করে ঝরাজীর্ণ ঘরে বসবাস মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেমের পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন

ফারুক হোসেন: বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে উজ্জীবিত হয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার কলাকান্দা ইউনিয়নের হানিরপাড় গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেম। দেশ স্বাধীন হলেও তার জীবনে স্বাধীনতা আসেনি। এ অসহায় ভূমিহীন মুক্তিযোদ্ধা আজও পরিবার নিয়ে ঝরাজীর্ণ একটি দু’চালা ঘরে বসবাস।

সহযোদ্ধারা জানিয়েছেন, আবুল হাশেম ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চের কালো রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী গণহত্যা শুরু করলে তিনি দেশ ও মানুষের কথা ভেবে ঘরে থাকতে পারেননি। দেশকে শত্রুুমুক্ত করতে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ এলাকায় পাক হানাদার বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করেছেন।

মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেমের ২ ছেলে ও ১ মেয়ে। এরমধ্যে মেয়ের বিয়ে হয়েছে। বড় ছেলে ঢাকায় টং দোকান করে নিজের খরচ বহন করে। আর ছোট ছেলে বেকার। মাসে ১২ হাজার টাকা মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা ছাড়া আর কোন আয় নেই। এ টাকায় কোনরকম সংসার চলে। পৈতৃক সূত্রে কয়েক শতাংশ জায়গার মধ্যে একটি দু’চালা ঘর পেলেও বর্তমানে ঝরাজীর্ণ হয়ে পড়ছে। বর্তমানে রোদ-বৃষ্টির সঙ্গে লড়াই করে বসবাস করছেন ভাঙ্গা ঘরটিতে।

গেরিলা যোদ্ধা আবুল হাশেম জানান, সংসারে অভাব অনটনেই চলছে তার মানবেতর জীবনযাপন। মুজিববর্ষে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন প্রকল্প বা ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হলেও আমার ভাগ্য জোটেনি একটি ঘর। রোদ বৃষ্টি পানির সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করে এ ভাঙ্গা ঘরে বসবাস করতে হচ্ছে। মুজিববর্ষ উপলক্ষ্য প্রধানমন্ত্রী উপহার হিসেবে একটি ঘর পাওয়ার আবেদন জানান।

মতলব উত্তরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মোজাম্মল হক জানান, আবুল হাশেম একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি একটি ভাঙ্গা ঘরে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে একটি ঘর জরুরি প্রয়োজন।

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার গাজী শরীফুল হাসান জানান, মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেমের বাড়িতে সরেজমিনে যাব এবং মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘর পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে ব্যবস্থা করা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button