জাতীয়

সরকারের সফল মুখপাত্র ড. শামসুল আলম : ড. আতিউর রহমান

শামসুল আলম একজন প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন। ২০১৬ সালে অবসরে যান। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছুটি নিয়েই তিনি ২০০৯ সালে পরিকল্পনা কমিশনের জিইডির সদস্য হিসেবে যোগ দেন। আজ অব্দি সেখানেই আছেন। ইতোমধ্যে মহামান্য রাষ্ট্রপতি তাঁকে ১০ শতাংশ কোটার আওতায় সিনিয়র সচিবের মর্যাদাও দিয়েছেন।

বর্তমান সরকারের তৃতীয় মেয়াদে এসে আমরা লক্ষ্য করছি বাংলাদেশ সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য অভিমুখী পরিকল্পিত উন্নয়নের পথে। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ছাড়াও রূপকল্প ২০৪১ এবং বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০-এর মতো সুদূরপ্রসারী মাঝারি ও দীর্ঘমেয়াদে পরিকল্পনার কাঠামোর মধ্যই তার বাজেট, বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জনের অভিপ্রায়ে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করে যাচ্ছে এই সুশৃঙ্খল উন্নয়ন পরিকল্পনা কাঠামো প্রণয়নে সবচেয়ে গুরুত্ব্পূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন ড. শামসুল আলম। দেশে এবং বিদেশ থেকে উ”চশিক্ষায় শিক্ষিত এই অধ্যাপক-গবেষক ‘করে করে শেখা’র এক অনন্য নজির স্থান করে চলেছেন।

আমি ড. শামসুল আলম মোহনকে দীর্ঘদিন ধরেই চিনি। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অনেকের সঙ্গেই আমি ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছি। অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন, অধ্যাপক লুৎফর রহমান, ইমেরিটাস অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার মগুল এবং ড. শামসুল আলম ছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম। অন্য বিভাগের অধ্যাপক গবেষকদের সাথেও কাজ করার সুযোগ আমার হয়েছে। ড. আব্দুস সাত্তার মণ্ডল এবং ড. শামসুল আলম দুজনই পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে যেসব কাজ করেছেন বা

করছেন সেসবের সঙ্গে আমার কাজের ধরনের অনেকটাই মিল আছে। সাত্তার ভাই কৃষি অর্থনীতি নিয়েই সারা জীবন ধরে গবেষণা করে চলেছেন। আর মোহন ভাই তাঁর কাজের ক্ষেত্রকে আরও অনেকটাই প্রসারিত করেছেন। মূলধারার ম্যাক্রো অর্থনীতি, মুদ্রানীতি, রাজস্ব নীতি, সবুজ প্রবৃদ্ধিসহ নানা বিষয়েই তাঁর ঝোঁক লক্ষ করার মতো।

মোহন ভাই পরিকল্পনা কমিশনে। আমি বাংলাদেশ ব্যাংকে। বাজেটসহ নীতিনির্ধারণী সকল সভায়ই তাঁর সাথে দেখা হতো। কথা হতো। আর খুবই সজ্জন, আপাদমস্তক ভদ্রলোক, বিনয়ী এবং মৃদুভাষী ড. শামসুল আলম একজন আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব। তাই তাঁর সাথে স্বাভাবিকভাবেই আমার বুদ্ধিবৃত্তিক সংযোগ গভীর ছিল এবং এখনও আছে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়নের সময় যে অর্থনীতিবিদ প্যানেল গঠন করা হয়েছিল তাতেও ছিলাম আমি। পেশাগত এই সংযোগ ছাড়াও ব্যক্তিগতভাবেও তিনি আমার প্রিয়জন।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে চলে আসার পরও নানা সেমিনার ও সম্মলনে আমি মঞ্চ ভাগ করে নিয়েছি এবং এখনো নিচ্ছি। দারুণ উষ্ণতার সাথে তিনি আমাকে তাঁর পাশে বসার আহবান জানিয়ে থাকেন। অনেক সময় অনেক বিষয়ে হয়তো আমাদের মতের মিল হয় না। কিন্তু মনের অমিল কখনই হয়নি। আমি তাঁর প্রতিটি সাফল্যেই খুশি হই। ২০২০ সালে তিনি একুশে পদক পেলেন। ড. জাহাঙ্গীর আলমও পেলেন। উভয়ের সমমানে বার্ক মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ কষি অর্থনীতি সমিতি। আমি তাতে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছিলাম। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন প্রধান অতিথি। সেদিনও আমি এ দুজনের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার ভূয়সী প্রশংসা করেছিলাম।

বিশেষ করে তাঁরা উভয়েই বাংলাদেশের কৃষি খাতের উন্নয়নের পক্ষে বাড়তি বিনিয়োগের যৌক্তিকতার পক্ষে কাজ করে চলেছেন তার প্রশংসা করতেই হয়। আরেকটি কারণে আমি ড. শামসুল আলমের ভূমিকার প্রশংসা করে থাকি। সরকারি কাজের শত ব্যস্ততা সত্ত্বেও তিনি নিয়মিত বিভিন্ন কাগজে বাংলাদেশের উন্নয়নের রকমফের নিয়ে খুবই সহজ করে লিখে থাকেন। নীতি নেয়া এক জিনিস। আর সেই নীতিকে মানুষের ভাবনার সীমায় নিয়ে যাওয়া আরেক জিনিস। আমাদের পরিকল্পনাবিদদের অনেকেই এই অতিপ্রয়োজনীয় কাজটি করে উঠতে পারেননি। পরে তাঁরা কেউ কেউ বই লিখেছেন। কিন্ত যে সময়টায় তাঁরা পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছেন তখন যদি খুবই সহজ ভাষায় এসব নিয়ে লিখতেন তাহলে জাতির মনস্তত্ত্ব গঠনে তাঁরা বড় ভূমিকা পালন করতে পারতেন। ড. শামসল আলম সেই দিক থেকে খুবই অনন্য। তিনি তাঁর ভাবনাগুলো নিরন্তর সাধারণ মানুষের সঙ্গে শেয়ার করছেন। ফলে সরকারের নীতিমালার গতিপ্রকৃতি বুঝতে তাদের জন্য সুবিধে হচ্ছে। গণমাধ্যমের কমীরাও উপকৃত হচ্ছেন। আর তরুণ প্রজন্ম অনুভব করতে পারছেন আসলেই দেশের উন্নয়ন কোন দিকে হাঁটছে।

প্রচুর লিখেছেন শামসুল আলম। তার লেখাগুলো পড়েই আমরা বুঝতে পারি আমাদের অর্থনৈতিক নীতিকৌশলগুলোর হালহকিকত। দৈনিকে ছাপা হওয়া কয়েকটি লেখার বিষয়বস্তু নিয়ে চুম্বক কিছু কথা নিয়ে আলাপ করতে চাই এই নিবন্ধে। হাতের কাছে তাঁর সব লেখা নেই। তবুও যে কটি লেখা উদ্ধার করতে পেরেছি সেসবের ওপর কিছুটা আলো ফেলতে চাই। শুরু করি তাঁর ‘বঙ্গবন্ধুর সময়ে শিল্পায়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাফল্য’ লেখাটি দিয়েই। যে তথ্যটি তিনি এই লেখার শুরুতে দিয়েছেন তা নানা কারণেই গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তার মাত্র ২১ দিনের মাথায় তিনি একটি পরিকল্পনা কমিশন গঠন করে ফেলেন। ভারত এ কাজটি করতে পেরেছিল তিন বছর পরে। আর পাকিস্তান তা করতে পেরেছিল ছয় বছর পরে। এ থেকেই বোঝা যায় সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধু পরিকল্পিত উপায়েই সুষম উন্নয়নের পক্ষে ছিলেন। তিনি বড় বড় শিল্প জাতীয়করণ করেছিলেন এবং খুব দ্রুতই এসব শিল্পের উৎপাদনক্ষমতা স্বাধীনতা-পূর্ব সময়ের পর্যায় থেকে উন্নত করতে পেরেছিলেন। ড. আলম লিখেছেন প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাকালেই আড়াই বছরেই জিডিপিতে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের অবদান ৪.৭৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮.৮৯ শতাংশে উন্নীত করতে পেরেছিলেন। শিল্পের পাশাপাশি তিনি কৃষির আধুনিকায়নের পক্ষে ছিলেন। তাই ওই স্বল্প সময়েই বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল, গবেষণা ইনস্টিটিউট, ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট, পারমাণবিক কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট স্থাপনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।

বেসরকারি খাতের সুযোগ-সুবিধা প্রসারেও বঙ্গবন্ধু সমান মনোযোগী ছিলেন। তিনি শ্রমনির্ভর এবং মূলধননির্ভর প্রযুক্তির ব্যবহারে সমান উৎসাহী ছিলেন। অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক আগ্রহের কারণে রাস্তাঘাট, সেতু, বন্দর, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পুষ্টির উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ভৌত ও সামাজিক আবকাঠামো উন্নয়নে তিনি সদাই তৎপর ছিলেন। একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতিকে তিনি কী করে এত তাড়াতাড়ি সচল করেছিলেন ড. আলমের এই তথ্যনিষ্ঠ লেখা থেকে স্পষ্টই অনুভব করা যায়। এর পরের প্রবন্ধটির নাম ‘এসডিজি বাস্তবায়নে পথপরিক্রমা ও চ্যালেঞ্জ’। সতেরটি এসডিজির সংক্ষিপ্ত বিবরণ ছাড়াও এগুলোর বাস্তবায়নে যেসব চ্যালেঞ্জ জাতিকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে সেসব নিয়ে এ প্রবন্ধে তিনি লিখেছেন।

বিশেষ করে, পর্যাপ্ত অর্থ সমাবেশের সমস্যা, এনজিওদের জন্য আন্তর্জাতিক উৎস থেকে অর্থপ্রাপ্তির টানাপড়েন, বেসরকারি উদ্যোগের অপ্রতুলতা এবং স্থা সরকারের সক্রিয়তার অভাবকে তিনি চিহ্নিত করেছেন এসডিজি বাস্তবায়নের বড় সব বাধা হিসেবে। ‘অর্ধশতাব্দীর বাংলাদেশ : ভস্ম থেকে ফিনিক্স পাখির উত্থান’ প্রবন্ধে ড. শামসুল আলম বাংলাদেশের বিস্ময়কর রূপান্তরের গল্প বলেছেন। কৃষি, প্রবাসী আয়, রফতানির ওপর ভর করে কেমন করে দেশের রিজার্ভ বাড়ছে, সামাজিক সূচকগুলো উর্ধ্বমুখী হচ্ছে এবং একই সঙ্গে এ ধারা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জসমূহ নিয়েও আলাপ করেছেন। বিশেষ করে রফতানি বহুমুখীকরণ, বিনিয়োগের হার বাড়ানো এবং দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতার ওপর তিনি জোর দিতে বলেছেন।

মুদ্রানীতিতেও তাঁর রয়েছে গভীর আকর্ষণ। ২০১৪ সালের দ্বিতীয় প্রান্তের মুদ্রানীতির সংরক্ষণশীলতায় খানিকটা না ঘেঁষে ড. শামসুল আলম তাকে আরও সম্প্রসারণবাদী করার পরামর্শ দিয়েছেন। তখনো মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের বেশি সত্ত্বেও তিনি প্রবৃদ্ধির স্বার্থে এবং সরকারের রাজনৈতিক এজেন্ডা পুরণের জন্য এমন নমনীয় মুদ্রানীতির পক্ষে লিখেছেন। পুরোপুরি একমত না হতে পারলেও ড. শামসুল আলমের কথায় যথেষ্ট যুক্তি ছিল। তাছাড়া, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে তার ঋণ বাড়ানোর আহ্বানটি ছিল যথার্থ। সামষ্টিক অর্থনীতিতে তাঁর পারদর্শিতা প্রশংসনীয়।

এর পরে অসমতার বিষয়টির আলোকে তিনি অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় কী কী উদ্যোগ নেওয়া উচিত সেসব কথা লিখেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি শিশুদের বিকাশ ও পুষ্টি চাহিদা পূরণে ব্যয় বাড়ানো, সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুবিধা প্রদান, মানসম্মত শিক্ষার প্রসার, দরিদ্র পরিবারের কাছে সরাসরি অর্থ প্রদান, গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং প্রগতিশীল কর ব্যবস্থা প্রবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন। নিঃসন্দেহে এসব পরামর্শ প্রাসঙ্গিক। দ্বিমতের অবকাশ নেই। কিন্তু দুর্নীতি ও অন্যায্য শাসনের সুযোগ নিয়ে পাকিস্তান আমলের বাইশ পরিবারের মতো কতিপয়তন্ত্র যেভাবে বিকশিত হচ্ছে তা নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে অর্থনীতিতে অসমতা কি সত্যিই দূর করা যাবে, সে বিষয়ে আলো ফেললে ভালো করতেন ড. আলম। ‘উন্নয়ন বিনিয়োগে চাই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি’ প্রবন্ধে ড. শামসুল আলম বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়নে বিনিয়োগ প্রয়োজনীয়তা ও বর্তমান বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে লিখেছেন। পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় ব্যয় পুনরুদ্ধার ও বেসরকারি খাতে নবায়নযোগ্য শক্তি উৎসাহিত করার বিষয়ে তিনি লিখেছেন। ‘দেশে কোভিড-১৯ মহামারির সংক্রমণ ও মৃত্যুহারের সাম্প্রতিক গতিপ্রকৃতি বিষয়ে যথার্থই লিখেছেন যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বজায় রেখেই আমাদের অর্থনীতিকে সচল রাখতে হবে। আসলেও আমরা এই ভারসাম্যপূর্ণ নীতিকৌশলই গ্রহণ করেছি।

‘টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বাস্তবায়ন ও উন্নত অর্থনীতির জন্য কৃষি খাতের রূপান্তর’ নামের প্রবন্ধে তিনি শিক্ষার ওপর বেশ জোর দিয়েছেন। লিখেছেন মাধ্যমিক পর্যায়ে ব্যবহারিক ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার প্রসারের পক্ষে। অকৃষিকাজের সুযোগ বাড়ছে বলে বাণিজ্যিক কৃষির বিকাশেরও সুযোগ বাড়ছে। ব্যক্তিখাত যেভাবে কৃষির উন্নয়নে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর জন্য ল্যাব স্থাপন করছে এবং কৃষি স্নাতকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছে সেসবের তিনি প্রশংসা করেছেন। একই সঙ্গে বিজ্ঞানীদের আরও প্রণোদনা দিয়ে আধুনিক কৃষির বিকাশের পথ সুগমের প্রস্তাব তিনি করেছেন। এ থেকেই বোঝা যায় ড. আলম একজন বাস্তববাদী পরিকল্পনাবিদ। বাজার ব্যবস্থায় সকল কুশীলবের স্বাধীনভাবে কাজ করার যে আহ্বান তিনি একটি নিবন্ধে লিখেছেন আমি তার সাথে পুরোপুরি একমত। সবশেষে আমি তাঁর লেখা ‘বাঙালি জাতির বিস্ময়কর উত্থানে বর্ণিল সুবণর্জয়ন্তী’ প্রবন্ধটির মূল সুরের সাথে একমত পোষণ করছি। এই পঞ্চাশ বছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি, রফতানি আয়, প্রবাসী আয়, কৃষির উন্নতি এক কথায় অভাবনীয়। অথচ এক সময় আমাদের এক ডলারও রিজার্ভ ছিল না। খাদ্য ঘাটতি লেগেই ছিল। দারিদ্র্য ছিল কুৎসিৎ পর্যায়ে। সেই দুর্বিষহ পরিস্থিতি থেকে আজ বাংলাদেশ যে অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে তা সত্যি উদযাপন করার মতো। ড. আলম ঠিকই লিখেছেন, ‘অতীতের গৌরব ভবিষ্যতে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়’।

তাঁর মাত্র কয়েকটি লেখার ওপর খানিকটা আলো ফেললাম। তাঁর লেখা আঠোরোটি বই এবং আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত লেখাগুলো নিয়ে কিছুই লিখলাম না। তিনি দুহাতে লিখে চলেছেন। তাঁর এই অদম্য কর্মস্পৃহা আজীবন সচল থাকুক-সেই কামনাই করছি। অর্থনীতি বিষয়টি শেষ পর্যন্ত ‘কমনসেন্স’ ছাড়া আর কিছুই নয়। ড. শামসুল আলম সেই সাধারণ চিন্তাকেই খুবই মুন্সিয়ানার সাথে পরিকল্পনা দলিলে এবং গণমাধ্যমে তুলে ধরেছেন। সাধারণের ভাবনার জগতে তাঁর এই আনাগোনা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিশ্চয় শ্রদ্ধাভরেই স্মরণে রাখবে।

আরও দীর্ঘজীবী হোন। নিরন্তর লিখে যান ড. শামসুল আলম। আপনার সুস্বাস্থ্য কামনা করছি।

লেখক-ঃ ড. আতিউর রহমান
বাংলাদেশ ব্যাংক, সাবেক গভর্নর।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button