জাতীয়

১৫ আগস্ট ইতিহাসে নির্মমতার এক কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিতঃ ড.শামসুল আলম

ফারুক হোসেন: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া মাহফিলের অনুষ্টিত হয়।

সোমবার (১৬ আগস্ট) সকালে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো আয়োজনে
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম. এ. মান্নান এমপি, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম।

অনুষ্ঠানে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন “বঙ্গবন্ধু এ যাবৎকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি, এটা প্রমাণিত। বাংলার সাধারণ মানুষদের সংগঠিত করে শত্রুর আক্রমণ প্রতিরোধে ঝাঁপিয়ে পড়ার নেতৃত্ব দিয়ে তিনি বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন। তিনি সব বাঙালির জন্য বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর জন্যই স্রষ্টার কাছ থেকে পাওনা নিজস্ব ভূমি ফিরে পেয়েছিলাম আমরা।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, আগস্ট বাঙালি জাতির নিকট বেদনাদায়ক একটি মাস। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ইতিহাসে নির্মমতার এক কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত। ১৯৭৫ সালের এই দিনে মানবসভ্যতার ইতিহাসে সবেচেয়ে নিকৃষ্ট ও ঘৃণ্যতম হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। বুলেটের আঘাতে স্তব্ধ করে দেওয়া হয় বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠা ও মুক্তি সংগ্রামের দ্ব্যর্থহীন বজ্রকণ্ঠ।

ঘাতকেরা এদিন শুধু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকেই সপরিবারে হত্যা করেনি, হত্যা করেছিল বাঙালি জাতির মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অগ্রযাত্রা, সমৃদ্ধি ও সুন্দর আগামীর স্বপ্ন।

তিনি আরো বলেন, জাতীয় শোক দিবস আসলে বঙ্গবন্ধুর জীবনের নানা দিক শুনলে এবং সেগুলো তথ্যভিত্তিক এবং অনেক ক্ষেত্রে গভীর ভাবে চিন্তা করলে মনে অনেক বেদনার উদ্রেক করে এবং একই সঙ্গে ঘৃণার উদ্রেক করে।

১৫ আগস্ট আসলে শুধু আলোচনা করলেই হবে না আমাদের মধ্যে কোন পরিবর্তন আসছে কিনা কিছুটা হলেও আমাদের কর্মে তার প্রকাশ ঘটছে কিনা, না কি শুধুই আলোচনা করেই শেষ হচ্ছে সে দিকে গুরুত্ব ও লক্ষ রাখতে হবে।

ড. শামসুল আলম আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমাদের সুন্দর একটি সংবিধান উপহার দিয়েছিলেন। যে সংবিধানে মানবিক মূল্যবোধকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছিলো বিশেষ করে মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলোর উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করেই বর্তমানে প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০৪১ এবং টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন “বঙ্গবন্ধুর মূল আদর্শ ছিলো বাংলাদেশ স্বাধীন করা, এবং ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র গঠন করা এর মানে এই না যে ধর্ম বাদ দিয়ে দেয়া। সার্বিক ভাবে একটি দেশ এগিয়ে যেতে যা প্রয়োজন তা হলো দেশটির অভ্যন্তরীণ আদর্শ।

বঙ্গবন্ধুর কারণে আমরা আর্থিক ভাবে, সামাজিক ভাবে, সাংস্কৃতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছি। রাষ্ট্রের ভিতরের মানুষের আদর্শের কারণে একটা দেশ এগিয়ে যায় আমাদের দেশ এগিয়ে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে। এই আদর্শ না থাকলে দেশে অপসংস্কৃতি, মৌলবাদ এবং জঙ্গি সন্ত্রাস বাসা বাধে।

তিনি আরো বলেন, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা তখনই সার্থক হবে যখন আমদের শিক্ষা বা কাজকর্ম মানুষের উন্নতির জন্য হবে। এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button